ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | 216 বার

ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ
Advertisements
Share Button

আমরা বাঙ্গালী, আমরা আজন্ম কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মেছি। সেই বৈশিষ্ট্য গুলো আজও ত্যাগ করতে পারিনি। সেটা দেশের ফার্স্ট ক্লাস অফিসার বা জনগন থেকে শুরু করে ভবঘুরে পর্যন্ত কেউ এই অভ্যাস গুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি।

আমাদের মাঝে এমন একটা ব্যাপার রয়েছে যেখানে কোনকিছু চরম পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত তার সুরাহা হয় না বা আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে করি না। যেমন, রোগ অল্প থাকতে চিকিৎসা করাই না, যতক্ষণ না অসহ্য পর্যায়ে না যায়। সবগুলো ব্যাপার এমনই ভাবে ঘটে চলছে আমাদের মাঝে। আবার সামাজিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়,

সমাজে এমন কিছু সমাজগর্হিত কাজ হয়ে থাকে যার কোন ধরনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না যতক্ষণ না পর্যন্ত সন্মানহানী না ঘটবে।

একটা সমাজে যখন সমাজ গর্হিত কোন কাজ ঘটে, লোকজন যখন জানাজানি হয়, প্রশাসন যখন হস্তক্ষেপ করে তখন কিন্তু সমাজের প্রতিনিধিদের হাজির করা হয়। সমাজ গর্হিত কাজের দায়ভার তখন সমজা প্রধানদের ঘাড়ে এসেই পড়ে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সমাজ প্রধানদের ঘাড়ে চাপ না পড়ে ততক্ষণ তারা চেতনাহীন থাকে।

আসলে ব্যাপারটা হলো, কোন কিছু যখন ঘটে যায় তখন আর কিছুই করার থাকে না। এই যেমন ধরুন, ঢাকার বাড্ডায় যে নারীকে “ছেলে ধরা” বলে গনধোলাই দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করলেন। পরবর্তীতে যখন জানতে পারলেন তিনি তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলেন আর আপনি ছেলে ধরা বলে মেরে দিলেন, এখন হাজারবার আফসোস করছেন কিন্তু কোন লাভ নেই। আপনি কখনোই আর পারবেন না তাকে ফিরিয়ে আনতে।

আবার ধর্ষণের ব্যাপারটা লক্ষ্য করুন। আজ সন্ধ্যার পর থেকে কালের কন্ঠ অনলাইনে তিনটা ধর্ষণের খবর এসেছে। একটির শিরনাম ছিল -বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, ব্যাথায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। আরেকটি ছিল- এক তরুণী ধর্ষণনামা, বাড়ি ওয়ালা, তার ছেলে এমনকি বাদ যায়নি পাড়াপ্রতিবেশী নাবালক ছেলেটিও। ঐ যে মেয়েটা ধর্ষণের শিকার হলো তার সতীত্ব, সম্ভ্রম কি ফিরিয়ে দিতে পারবে এই সমাজ? কালকে পেপারে দেখেছিলাম এক মেয়ের খোলা চিঠি লিখে আত্মহত্যা। কয়জন সইতে পারে এ জঘন্যতম কাজ?

এরকম শতশত নারীর ধর্ষণ, আত্মহত্যার খবর প্রতিনিয়ত আমরা শুনে থাকি। এর বাইরে অজানা থেকে যায় আরো হাজারো নারী-শিশুর ধর্ষণের খবর। সমাজের ফার্স্ট ক্লাস অফিসার, নাগরিক তারা তো জানেন, আমাদের না হয় কিছু বলার ক্ষমতা নেই কিন্তু আপনাদের তো আছে। আপনারা কিছু বললেও তো বলতে পারেন। আপনারা কেন বলেন না? আপনারা সমাজের মাথা, আপনাদের কথায় সমাজ চলে এমনকি ভোটাধিকার জনগনের নিজস্ব অধিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা আপনাদের কথায় ভোট প্রদান করেন।

আমি প্রথমদিকে বলেছিলাম, আমরা বাঙ্গালী, আমরা আজন্ম কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মেছি। চরম পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা কোন কিছুর সুরাহা করি না। সমাজের প্রথম শ্রেণির নাগরিক যারা আছেন তারা কেন প্রাথমিক পর্যায়ে সমাজের সমস্যা গুলোর সমাধান করেন না? ভাবছেন খারাপ মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে নিজের সন্মানহানী হবে!! হ্যাঁ সেটা হতে পারে কিন্তু আপনি যখন প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করবেন না এরা কিছুদিন পরে আপনাকেও আর তোয়াক্কা করবে না। আপনার প্রতি তাদের যে সন্মান বা ভয় সবকিছু কেটে যাবে, তখন তাদের চোখ আপনার পরিবারের উপর ফেলতেও দ্বিধা করবে না। তাই সময় থাকতে আপনাকে এগুলো ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সবারই পরিবার আছে, তাই সবাইকে মিলেমিশে সমাজ থেকে এধরনের মানুষদের মূলৎপাটন করে ফেলতে হবে।

আমি আরেকটা ব্যাপার বলতে চাই, কখনো কি কোন ধর্ষণের শিকার এমন কোন মেয়ের সাথে কথা বলেছেন? তাদের অনুভূতি গুলো জানতে চেয়েছেন কখনো? এখন বলতে পারেন, আপনার এলাকাতে এগুলো হয় না। কিন্তু না আমি জোর গলায় বলতে পারব, আপনার এলাকাতেও এগুলো হয়। কজন নারী তার সম্ভ্রম হারানোর কথা সমাজে জানাবে? চক্ষুলজ্জার ভয়ে অধিকাংশ নারী তার ধরণের কথা নিজের কাছেই রাখে।

আমাদের সমাজে একটি কথার প্রচলন আছে, চোর চুরি করে দশদিন ধরা পড়ে একদিন’। এই কথাটা নির্মম সত্য। সমাজ গর্হিত যে ঘটনাই আপনি শুনে থাকেন না কেন তা একদিনের ফল নয়, বরং সেগুলো বহুদিনের ফল। হয় ধর্ষণকারীর বহুদিনের কর্মফল, নয়তো ধর্ষিতা বহুদিন ধরে ধর্ষণের শিকার। আজ সন্ধ্যায় কালের কন্ঠ পত্রিকার দ্বিতীয় ধর্ষণের শিরোনাম (এক তরুণীর ধর্ষণনামা) দেখে নিশ্চই আমার ব্যাখ্যা বুঝতে পারছেন। মেয়েটি অনেকদিন ধরে ধর্ষণের শিকার। শেষ পর্যন্ত অত্যাচার সইতে না পেরে নিজের সম্ভ্রম হারানোর কথা বলতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে। তেমনি আপনি আজ যে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারলেন সেটা বহুদিনের।

সবশেষে বলতে চাই, আজ যে মেয়েটি ধর্ষনের শিকার হয়েছে সে কিন্তু কোন বাবার রাজকন্যা, যেমনভাবে আপনি আপনার মেয়েকে দেখেন। আজ অন্য লোকের মেয়ে ধর্ষিত বলে আপনার মাথা ব্যাথা নেই, কাল যখন আপনার মেয়ে ধর্ষিত হবে তখন আপনার মুখ, সন্মান কোথায় থাকবে? আপনার মেয়েটি যদি চক্ষুলজ্জার ভয়ে কিছু না বলে না সইতে পেরে আত্মহত্যা করে তখন আপনি কি করবেন?

তখন “ধর্ষণকারীর বিচার চাই” বলে স্লোগান দিবেন, ব্যানার টানাবেন? কিন্তু এগুলো করে আর কি লাভ হবে? বিচার করলে কি আপনার মেয়ে তার সতীত্ব ফিরে পাবে? তার আত্না কি শান্তি পাবে? না এর কিছুই হবে না।

তাই আবারো বলতে চাই, আমাদের আজন্ম বৈশিষ্ট্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সেটা যতদ্রুত সম্ভব। সমাজর সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে, সমাজে যেন আর কোন ধর্ষণকারীর সৃষ্টি না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি কথা আছে, রোগ প্রতিরোধ করতে চাইলে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকার সময়েই ব্যবস্থা নিতে হবে, তবেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। তেমনি সমাজ থেকে এদের শাস্তি দিয়ে বিতাড়িত করার আগেই এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যেন সমাজে আর এ ধরনের কুলাঙ্গারদের জন্ম না হয়।

Advertisements
Share Button

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
খোঁজখবর.নেট এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!