নারী ধর্ষণ ও থানায় বিয়ে

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল ; প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:৫৯ অপরাহ্ণ | 137 বার

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল ; প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে
গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ব্রিফ করছেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।
Advertisements
Share Button

পাবনায় তিন সন্তানের গৃহবধূকে ধর্ষণ ও থানায় জোর করে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্তে ধর্ষণ ও থানায় বিয়ে দেয়ার ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত দল।

আজ রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেন তিন সদস্যের কমিটি। পরে রাত আটটায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ধর্ষণ ও থানায় বিয়ে হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। তদন্তে প্রকাশিত সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা মিলিছে। ঘটনাটিকে ‘সিরিজ রেপ’ (পালাক্রমে ধর্ষণ) হিসেবে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।

তদন্ত প্রতিবেদনে চারটি পর্যবেক্ষণ এবং দু’টি মতামত দিয়েছে কমিটি। তবে কি আছে পর্যবেক্ষণ ও মতামতে, তা জানাতে রাজী হননি। এই তদন্ত প্রতিবেদন রাতেই মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি উঠে না আসলে হয়তো ধামাচাপা পড়ে যেতো। তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, মোবাইলে প্রেমের সুত্র ধরে পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক নারীকে গত ২৯ আগষ্ট রাতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে রাসেল নামের এক যুবক। তারপর আরো কয়েকজন ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর। পরে ওই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে, পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে। তবে মামলা নথিভুক্ত না করে ভুক্তভোগী নারীর সাথে থানা চত্বরে অভিযুক্তের বিয়ে দিয়ে ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাসেলসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। আর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার ও উপ-পরিদর্শক একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আর একইদিন এই চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও থানার মধ্যে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সাথে এক ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আসার সাথে সাথেই মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের দৃষ্ঠিগোচরে আসে। পরে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশে পাবনা জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে আহবায়ক এবং পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান ও পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু জাফরকে সদস্য করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে তারা কাজ শুরু করেন।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজ জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

Advertisements
Share Button

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
খোঁজখবর.নেট এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!