অনিয়মের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

চাটমোহরে এক স্কুলে একই পরিবারের ৩ শিক্ষকসহ ৫ জন !

মঙ্গলবার, ০২ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৩৬ পিএম | 2460 বার

চাটমোহরে এক স্কুলে একই পরিবারের ৩ শিক্ষকসহ ৫ জন !
নঈম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
Advertisements
Share Button

‘একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই পরিবারের ৩ জন শিক্ষক চাকুরী করছেন দীর্ঘদিন। শুধু তাই নয়, তিন শিক্ষক ছাড়াও স্কুল পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন ওই পরিবারের আরো দু’জন সদস্য। সবমিলিয়ে স্কুলটি ‘পারিবারিক স্কুলে’ পরিণত হয়েছে বলে মত সচেতন মহলের। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে উদাসীন উপজেলা প্রাথমিক  শিক্ষা কর্মকর্তারা।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এমন ঘটনা পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আনকুটিয়া গ্রামের নঈম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সম্প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। সম্প্রতি অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ও পারিবারিক স্কুলের বিষয়টি তদন্ত করতে ওই স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দু’টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এই অভিযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। যে কারণে ভেঙ্গে পড়েছে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে পাঠগ্রহণ করছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে নঈম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নঈম উদ্দিন রেজি: বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয় স্কুলটি। আর ১৯৯১ সাল  থেকেই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বর্তমানে আনকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, তার স্ত্রী নাদিরা পারভীন এবং শ্যালিকা নাজমুন্নাহার একই স্কুলে চাকুরী করে আসছেন। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত। তারা তিনজনই একই পরিবারের।

এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রয়েছেন প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেলের সোম্বন্ধী বজলুল হক সুশান এবং তার স্ত্রী সুলতানা পারভীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। আর শুরু থেকেই পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বজলুল হক সুশান। মাঝে শুধু এক মেয়াদে সভাপতি ছিলেন প্রধান শিক্ষকের ভায়রা মরহুম আব্দুস সাত্তার। যে কারণে স্কুলটি ‘পারিবারিক স্কুল’-এ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এতে করে স্কুলের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, স্লিপ ফান্ডের টাকা তছরুপ, বিনামূল্যে বই বিতরণের সময় ১০ টাকা করে উত্তোলন, বিদ্যালয়ের ফল-ফলাদী বিক্রি করে সেই টাকা নিজেই ভোগ করা, স্কুলের পুরাতন টিন এনজিওকে ভাড়া দেয়া, স্কুল চলাকালীন সময়ে ঘুমানো, স্কুলের আলমারি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ মোট ১১টি অভিযোগ এনে ইউএনও এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. রাশেদুল ইসলাম।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক অভিযোগকারী ওই সহকারী শিক্ষককে স্কুল চলাকালীন সময়ে বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বাগবিতন্ডা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নঈম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক  বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আক্রোশবশত: সহকারী শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম এগুলো করছেন।

স্কুল চলাকালীন ঘুমের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ যে কারণে মাঝে মধ্যে একটু ঘুমাই।’

বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বজলুল হক সুশানের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে। স্কুলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Share Button

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
খোঁজখবর.নেট এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!